ইন্দোনেশিয়ায় একটি বাস উল্টে যাওয়ার ঘটনায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২২ নভেম্বর) ভোরে দেশটির একটি মহাসড়কে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। স্থানীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার প্রধান বুদিওনো এক বিবৃতিতে বলেন, রাজধানী জাকার্তা থেকে ইয়োকার্তার দিকে যাচ্ছিল বাসটি। হাইওয়ে ইন্টারচেঞ্জের একটি মোড়ে পৌঁছানোর সময় ‘বেশ দ্রুত’ গতিতে চলছিল। রাস্তার সঙ্গে সংঘর্ষের পর বাসটি উল্টে যায়। বুদিওনো বলেন, আমরা ৩৪ জনকে সরিয়ে নিয়েছি। ঘটনাস্থলেই ১৫ জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে এবং হাসপাতালে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। বেশ কয়েকজনকে চিকিৎসার জন্য সেমারাং শহরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। সংস্থার শেয়ার করা ফুটেজে দেখা গেছে, উদ্ধারকারীরা একজনের মৃতদেহের ব্যাগে করে সরিয়ে নিচ্ছেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশীয়ার এই দেশটিতে পরিবহন দুর্ঘটনা খুবই সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেখানে পুরোনো যানবাহনগুলো ঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না এবং নিয়মিত সড়কের নিয়ম-শৃঙ্খলা লঙ্ঘন করা হয়।
তোশাখানার দুর্নীতি মামলায় পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এই কারাদণ্ডকে রাজনৈতিক প্রতিশোধ হিসেবেক অভিহিত করেছে। পিটিআইয়ের জ্যেষ্ঠ নেতা আসাদ কায়সার, পিটিআই মহাসচিব সালমান আকরাম রাজা এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, কারাবন্দি ইমরান তার কাউন্সেল সালমান সাফদারের বরাতে জানিয়েছেন, ইমরান খান বলেছেন, “যা কিছুই হোক, আমি কারও কাছে কোনো কিছুর জন্য ক্ষমা চাইব না। আর এ ব্যাপারে আমি আমার অবস্থানে অঙ্গিকারাবদ্ধ রয়েছি।” এছাড়া নিজ সমর্থকদের আন্দোলনের প্রস্তুতিও নিতে বলেছেন তিনি। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তাদের থেকে প্রাপ্ত উপহার নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ সংক্রান্ত মামলায় ইমরান ও তার স্ত্রীকে ১৭ বছর কারাবাসের সাজা দিয়েছেন আদালত। গতকাল শনিবার রাজধানী ইসলামাবাদের অ্যাকাউন্টিবিলিটি কোর্টের স্পেশাল জজ শাহরুখ আরজুমান্দ এই রায় ঘোষণা করেন। ২০২২ সালের এপ্রিলে পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে পরাজিত হয়ে ক্ষমতা হারানোর প্রায় দেড় বছর পর, ২০২৩ সালের আগস্টে গ্রেপ্তার করা হয় ইমরান খানকে। প্রথমে তাকে পাঞ্জাবের অ্যাটক কারাগারে রাখা হয়েছিল, পরে সেপ্টেম্বরে আদিয়ালা কারাগারে স্থানান্তর করা হয় তাকে। নিরাপত্তাজনিত কারণে আদিয়ালা কারগারেই আদালতের এজলাস বসেছিল বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে এএফপি। তোশাখানা সম্পর্কিত দু’টি মামলায় ইমরান ও বুশরাকে এই সাজা দেওয়া হয়েছে। মামলায় কারাবাসের সাজার পাশাপাশি ইমরান ও বুশরার প্রত্যেককে ১ কোটি ৬৪ লাখ রুপি করে জরিমাণা প্রদানেরও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এর আগেও তোশাখানা সংক্রান্ত একটি মামলায় ইমরান খান ও বুশরা বিবিকে ১০ বছর কারাবাসের সাজা দিয়েছিলেন নিম্ন আদালত; তবে পরে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট সেই সাজা মওকুফ ঘোষণা করেছিলেন। সূত্র: দ্য ন্যাশন
রাশিয়ার মস্কোয় গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিনিধিরা ইউক্রেন শান্তিচুক্তি–সংক্রান্ত আলোচনায় তেমন অগ্রগতি করতে পারেননি। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার যে ওয়াশিংটন ও ইউরোপের মধ্যে দূরত্ব যত গভীর হচ্ছে, তা রাশিয়ার জন্যই লাভজনক হয়ে উঠছে। গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আবারও ইউরোপের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ইউরোপ তাদের অভিবাসন নীতির কারণে ‘দুর্বল’ হয়ে পড়ছে। অঞ্চলটি ক্রমেই পতনের দিকে যাচ্ছে। ট্রাম্প আরও বলেন, ইউক্রেনে যুদ্ধের ক্ষেত্রে রাশিয়া সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। তিনি মনে করেন, যুদ্ধ বন্ধের জন্য এখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকেই এগিয়ে আসতে হবে। তাঁকেই ‘বিভিন্ন বিষয় মেনে নেওয়া শুরু’ করতে হবে। কারণ, তিনি পরাজিত হতে যাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্র গত সপ্তাহে নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল প্রকাশ করেছে। সেখানে ইউক্রেনকে সমর্থন করার জন্য ইউরোপীয় দেশগুলোর সরকারের সমালোচনা করা হয়েছে। নথিতে বলা হয়েছে, ‘ইউরোপীয় কর্মকর্তারা যুদ্ধ নিয়ে বাস্তববাদী নন, তাঁরা শান্তিচুক্তির পথে বাধা তৈরি করছেন।’ নথিতে আরও বলা হয়েছে, বেশির ভাগ ইউরোপীয় মানুষ শান্তি চান। কিন্তু সে আকাঙ্ক্ষাটুকু নীতিতে রূপান্তর করা হয় না। গতকাল জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস নিরাপত্তা কৌশলটির সমালোচনা করেছেন। এদিন এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এর (নিরাপত্তা কৌশল) কিছু অংশ বোঝা যায়, কিছু অংশ গ্রহণযোগ্য, আর কিছু অংশ আমাদের জন্য ইউরোপীয় দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য নয়।’ ফ্রিডরিখ আরও বলেন, ইউরোপের গণতন্ত্র রক্ষা করতে ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্যের প্রয়োজন নেই। রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্থিতিশীল সম্পর্কের পথে ইউরোপকে একটি অগণতান্ত্রিক বাধা হিসেবে দেখাতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন। আর তা রাশিয়ার কর্মকর্তাদের জন্য আশীর্বাদ হয়েছে। রাশিয়ার ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (ডিআইএফ) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কিরিল দিমিত্রিয়েভ এই সুযোগকে কাজেও লাগিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একাধিক পোস্ট দিয়েছেন। তিনি ইউরোপকে নিয়ে ট্রাম্পের সমালোচনাগুলোকে সামনে নিয়ে এসেছেন। ইউরোপীয় অনলাইন কনটেন্ট বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ইউরোপীয় নিয়ন্ত্রকেরা গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সকে ১৪ কোটি ডলার জরিমানা করেছে। এ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ইউরোপকে নিয়ে নানা সমালোচনা করেন। জরিমানা করার প্রতিক্রিয়ায় এক্সের মালিক ইলন মাস্ক ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ‘বিলুপ্ত’ করার আহ্বান জানিয়ে পোস্ট দিয়েছেন। ইউরোপীয়রা গণতন্ত্র চর্চার দিক থেকে পিছিয়ে পড়ছে বলে ট্রাম্প প্রশাসন যে অভিযোগ তুলেছে, তাকে রাশিয়ার কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে জোরালোভাবে উপস্থাপন করাটা একটু হাস্যকরই বলা চলে। কেননা, দীর্ঘ সময় ধরে রাশিয়ার ক্ষমতায় থাকাকালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রায় সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করেছেন। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকেও নাই করে দিয়েছেন পুতিন। তার ওপর রাশিয়া কার্যত ফেসবুক ও এক্সের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয় প্রবেশাধিকার বন্ধ করে রেখেছে। অথচ দিমিত্রিয়েভের মতো প্রভাবশালী রুশ কর্মকর্তারা ইংরেজিতে নিজেদের বক্তব্য ছড়িয়ে দিতে এসব প্ল্যাটফর্মই ব্যবহার করেন। মনে হচ্ছে এখানে রাশিয়ার একটি পরিকল্পিত কৌশল আছে। তারা ইউক্রেনের প্রতি ইউরোপের সমর্থন কমাতে চাচ্ছে এবং ন্যাটো জোটের শক্তি নিয়ে সন্দেহ তৈরি করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিরাপত্তা কৌশল মস্কোকে তথ্যযুদ্ধের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মানুষের মনোভাব প্রভাবিত করতে পারার মতো সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইউরোপীয় নেতাদের সমর্থন দৃঢ় করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সময়ে ইউরোপকে উদ্দেশ করে রুশ সতর্কবার্তার সুর আরও জোরালো হচ্ছে। রুশ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কট্টরপন্থী রুশ রাজনীতি বিশ্লেষক সের্গেই কারাগানভ বলেন, ‘রাশিয়া ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধ করছে, কোনো দুর্দশাগ্রস্ত, করুণ অবস্থায় থাকা, ভুল পথে চালিত ইউক্রেনের সঙ্গে নয়।’ কারাগানভের দাবি, তিনি পুতিনের হয়ে কথা বলেন না, তাই নির্দ্বিধায় নিজের মত জানাতে পারেন। তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধ শেষ হবে না, যতক্ষণ না আমরা ইউরোপকে নৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে পরাজিত করতে পারছি।’ তবে কারাগানভ রুশ সরকারের হয়ে কথা না বললেও এটা পরিষ্কার যে তিনি আসলে পুতিনেরই হুমকির ভাষারই পুনরাবৃত্তি করছেন। গত সপ্তাহে মস্কোয় ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জারেড কুশনারের সঙ্গে সাক্ষাতের আগেই পুতিন সতর্ক করে বলেছিলেন, এখনই ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধ করার মতো প্রস্তুতি রাশিয়ার আছে। তবে দেশটি যুদ্ধ শুরুর পরিকল্পনা করছে না। পুতিন বলেন, ‘আমরা ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধের পরিকল্পনা করছি না। আমি এ বিষয়ে শতবার কথা বলেছি। কিন্তু ইউরোপ যদি হঠাৎ আমাদের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে চায় এবং যুদ্ধ শুরু করে, তাহলে বলব আমরা এখনই প্রস্তুত।’ এই হুমকির ভাষা কাকে উদ্দেশ করে বলা হচ্ছে, তা স্পষ্ট। ক্রেমলিন চাচ্ছে ইউরোপীয়রা আতঙ্কিত হোক। কারণ, এসব কথা তাদের ট্রান্স–আটলান্টিক সম্পর্ককে নড়বড় করে দিচ্ছে।
ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপে উপত্যকাটিতে নির্দিষ্ট সীমারেখা বরাবর সেনা সদস্যের সরিয়ে নিয়েছিল ইসরায়েল। ওই সীমারেখাকে বলা হয় ‘ইয়েলো লাইন’ বা ‘হলুদ রেখা’। এখন ইসরায়েলি বাহিনী বলছে, যুদ্ধবিরতির পরের ধাপগুলোয় ওই সীমারেখা থেকে আর পিছিয়ে যাবে না তারা। এটিই হবে গাজা ও ইসরায়েলের ‘নতুন সীমান্ত’। সম্প্রতি গাজায় মোতায়েন করা ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় এ কথা বলেছেন ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর প্রধান ইয়াল জামির। হলুদ রেখা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের আর পিছিয়ে না নেওয়ার অর্থ হলো, গাজার অর্ধেকের বেশি এলাকা নিয়ন্ত্রণে থাকবে ইসরায়েলের। এর মধ্যে গাজার অনেক কৃষিজমি ও মিসরের সঙ্গে উপত্যকাটির রাফার সীমান্ত ক্রসিং রয়েছে। ইয়াল জামির ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন উত্তর গাজায়। সেখানে তিনি বলেন, ‘হলুদ রেখা হবে (ইসরায়েলের) নতুন সীমান্ত। এটি আমাদের সম্মুখ প্রতিরক্ষা রেখা হিসেবে কাজ করবে। এই রেখা বরাবর আমাদের অভিযান কার্যক্রম চলবে। গাজার বড় অংশে ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমরা এই প্রতিরক্ষা রেখা থেকে সরব না।’ ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর প্রধান ইয়াল জামির ফাইল ছবি: রয়টার্স যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিরোধী ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে টানা দুই বছর গাজায় নির্বিচার হামলা চালায় ইসরায়েল। এ সময় উত্তর গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের চলে যেতে বাধ্য করা হয়। গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি শুরুর পর ইসরায়েলি সেনারা হলুদ রেখা বরাবর সরে যায়। এরপরও গাজার ২০ লাখের বেশি বাসিন্দাকে এখন উপত্যকাটির উপকূল বরাবর সংকীর্ণ এলাকায় থাকতে হচ্ছে। ইসরায়েলের নতুন সীমান্ত নিয়ে ইয়াল জামির যে মন্তব্য করেছেন, তা অক্টোবরে সই হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিরোধী। ওই চুক্তিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েল গাজা দখল বা নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করতে পারবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা অনুযায়ী যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে, তাতেও গাজা থেকে ধাপে ধাপে সেনা সরিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সামরিক বাহিনীর প্রধানের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে গার্ডিয়ান–এর কাছে কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েল সরকার। তবে ইসরায়েলি বাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী’ গাজায় সেনা মোতায়েন রয়েছে আর হামাসই যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করছে। যদিও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে যে যুদ্ধবিরতির পর গাজায় ৩৬০ জনের বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েলই। ইসরায়েলের হাতে সাংবাদিক হত্যা সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা বৈশ্বিক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারসের (আরএসএফ) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ২৯ ফিলিস্তিনি সাংবাদিককে হত্যা করেছে ইসরায়েল। এ বছর সারা বিশ্বে ৬৭ সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে। সে হিসাবে ইসরায়েলের হাতেই হত্যার শিকার হয়েছেন প্রায় অর্ধেক সাংবাদিক। আরএসএফের এক প্রতিবেদনে আজ মঙ্গলবার বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা সংঘাত শুরুর পর থেকে প্রায় ২২০ সাংবাদিক ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় নিহত হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে তিন বছর ধরে বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকদের সবচেয়ে বড় হত্যাকারীতে পরিণত হয়েছে ইসরায়েল।
মেক্সিকোর হিদালগো অঙ্গরাজ্যের তুলা শহরে একটি বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন পাঁচজনেরও বেশি। এক প্রতিবেদনে দৈনিক অবজারভার জানিয়েছে, দুটি পিকআপে করে আসা হামলাকারীরা কোনো সতর্কতা ছাড়াই বারের ভেতরে প্রবেশ করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই চারজন মারা যান। পরে তুলা এবং তেপেখি শহরের হাসপাতালগুলোতে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়। হামলার পরপরই ঘটনাস্থল থেকে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। স্থানীয় ফেডারেল ও রাজ্য নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে অভিযান চালালেও এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি। হিদালগো কর্তৃপক্ষ জানায়, তুলা অঞ্চলটি জ্বালানিচোরাচালানকারীদের সক্রিয় অপরাধী চক্রের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত। সম্প্রতি এক কার্টেল নেতাকে গ্রেফতারের পর থেকে স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বী গ্যাংগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এ হামলার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সৌদি আরবের সঙ্গে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রয় চুক্তি বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, ‘তারা অনেকগুলো জেট কিনতে চায়। আমি বিষয়টি বিবেচনা করছি। তারা অনেক ‘৩৫’ কিনতে চায়—বরং তার থেকেও বেশি, যুদ্ধবিমান।’ ধারণা করা হচ্ছে, সম্ভাব্য বিক্রয় চুক্তিটি আগামী সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠকে আলোচনা হতে পারে। এই বৈঠকে অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা চুক্তিও স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা আছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর থেকে ফের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের বিস্তারিত তথ্য— এফ-৩৫ কী? এর ধরনগুলো কী কী? এফ-৩৫ লাইটনিং ২ হলো পঞ্চম প্রজন্মের এক আসনের, এক ইঞ্জিনের স্টেলথ মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান। এই যুদ্ধবিমান আকাশে প্রাধান্য বিস্তার, স্ট্রাইক মিশন, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ—সব ধরনের কাজেই সক্ষম। এটির তিনটি প্রধান ভ্যারিয়েন্ট রয়েছে ১. এফ-৩৫এ: সাধারণ টেকঅফ ও ল্যান্ডিং (সিটিওএল) ২. এফ-৩৫বি: স্বল্প দূরত্বে টেকঅফ এবং উল্লম্ব ল্যান্ডিং (এসটিওভিএল) ৩. এফ-৩৫সি: ক্যারিয়ার-ভিত্তিক অপারেশনের জন্য তৈরি এফ-৩৫ এর বিশেষ প্রযুক্তি এই জেটের স্টেলথ ক্ষমতা, সেন্সর ফিউশন টেকনোলজি এবং বাস্তবসময়ে অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যোগাযোগের সক্ষমতাই এটিকে আগের প্রজন্মের যুদ্ধবিমান থেকে পৃথক করে। এফ-৩৫’র কিছু মূল প্রযুক্তি বিয়ন্ড ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ অস্ত্র: এমবিডিএ মিটিয়রের মতো ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে পাইলট খালি চোখে লক্ষ্যবস্তু দেখা যাওয়ার আগেই আক্রমণ করতে পারে। রাডার, ইনফ্রারেড সিস্টেম ও বাইরের উৎসের তথ্য একত্র করে জেটটি একক ছবি তৈরি করে পাইলটকে দেখায়। হেলমেট-মাউন্টেড ডিসপ্লে সিস্টেম: পাইলট বিমানটির ভেতর দিয়ে যেন বাইরে দেখতে পান; শুধু তাকিয়েই টার্গেট লক করা যায়। ডাটা কানেক্টিভিটি: এফ-৩৫ আকাশে একটি নোডের মতো কাজ করে—স্থল, আকাশ এবং নৌবাহিনীর ইউনিটের সঙ্গে বাস্তবসময়ে তথ্য আদান-প্রদান করে। এফ-৩৫বি’র উল্লম্ব টেকঅফ/ল্যান্ডিং ক্ষমতা: ছোট রানওয়ে বা সামনের লাইনের ঘাঁটি—যেখানে পূর্ণাঙ্গ রানওয়ে নেই, এটি সেখানে অপারেশন পরিচালনার জন্য আদর্শ। লকহিড মার্টিন জানিয়েছে, তিনটি এফ-৩৫ ভ্যারিয়েন্টেই আধুনিক আপডেট অব্যাহত রয়েছে, যা ভবিষ্যতের সমতুল্য প্রতিদ্বন্দ্বী হুমকির বিরুদ্ধে এর প্রাধান্য ধরে রাখবে। বিশ্বব্যাপী ব্যবহার এ পর্যন্ত এক ডজনেরও বেশি দেশ এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান পরিচালনা করছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইসরাইল, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়া তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। ইসরাইল যুদ্ধক্ষেত্রে বিমানটির সবচেয়ে সক্রিয় ব্যবহারকারী। সিরিয়ায় বহু হামলায় তেল আবিব এটি ব্যবহার করেছে বলে খবর রয়েছে। ইরান দাবি করেছে তারা কমপক্ষে একটি ইসরাইলি এফ-৩৫ বিমান গুলি করে নামিয়েছে। যদিও এ দাবির পক্ষে কোনো স্বাধীন প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ২৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত ৮টার কিছু পরে রাজধানীর ফার্মগেটে স্টার হোটেলের সামনে গুলির ঘটনা ঘটেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় আজিজুল হক মোসাব্বিরকে উদ্ধার করে নিকটস্থ বিআরবি হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার পেটে তিন রাউন্ড গুলি লেগেছিল। এ ঘটনায় সুফিয়ান বেপারি (মাসুদ) নামে আরেকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সুফিয়ান বেপারি (মাসুদ) কারওয়ান বাজার ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনিও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা। ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগ এডিসি ফজলুল করিম গণমাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আজিজুল হক মোসাব্বির ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের এডিসি ফজলুল করিম বলেন, স্টার কাবাবের পাশের ওই গলিতে দুজনকে গুলি করা হয়েছে। এদের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের বিআরবি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ সূত্র জানায়, রাত আনুমানিক ৮টা ১০ মিনিটে তেজগাঁও থানাধীন পশ্চিম তেজতুরী বাজার এলাকায় অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে আজিজুল হক মোসাব্বিরকে গুলি করে। প্রাথমিকভাবে তাকে উদ্ধার করে বিআরবি হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর সেখানে তার দলীয় নেতাকর্মীদের অবস্থান করতে দেখা গেছে। গুলিবিদ্ধ নেতার ভর্তির ঘটনায় বিআরবি হাসপাতালের সামনে বিএনপির নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে রাস্তা সম্পূর্ণ ব্লক হয়ে গেছে। ৫০-৬০জন নেতাকর্মী তাদের দাবি দাওয়া নিয়ে সোনারগাঁও ক্রসিং এর ইনকামিং এ অবস্থান নিয়েছে। সোনারগাঁও ক্রসিং এর ইনকামিং বন্ধ আছে। তেজগাঁও থানা ২৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মজিদ মিলন যুগান্তরকে বলেন, বিকেল থেকেই আমি মুছাব্বির ভাইয়ের সঙ্গে ছিলাম। বিকেল আনুমানিক চারটার দিকে আমরা একসঙ্গে কাওরান বাজারের ১ নম্বর ডিআইপি মার্কেটে যাই। এরপর কাজীপাড়ায় এসে মুছাব্বির ভাই মাগরিবের নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে বেগম খালেদা জিয়ার দোয়া মাহফিল উপলক্ষে তিনি স্টার হোটেলে তাঁর গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর এবং ঢাকার নেতাকর্মীদের নিয়ে হোটেলের দোতলায় একটি সভা শুরু করেন। সভা শেষ করে রাত আনুমানিক আটটার দিকে মুছাব্বির ভাই নিচে নামেন। তখন স্টার হোটেলের সামনে আমি, সুফিয়ান বেপারী, মাসুদ ও নুর আলম মিলন ভাই একসঙ্গে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এ সময় মুছাব্বির ভাইয়ের পরিচিত এক বিএনপি নেতা সামনে এলে তাকে এগিয়ে দেওয়ার জন্য আমি ও আরেকজন রাস্তার অপর পাশে ওয়াসা ভবনের তলায় যাই। ওই সময় মুছাব্বির ভাই ও মাসুদ স্টার হোটেল থেকে তাঁর বাসার উদ্দেশ্যে আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে কাজীপাড়ার দিকে যাচ্ছিলেন। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ মাসুদ আমাকে ফোন করে জানায় যে, তাদের দুজনকে গুলি করা হয়েছে এবং দ্রুত সাহায্য করতে বলে। সঙ্গে সঙ্গে আমি ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি মুছাব্বির ভাই একটি ভ্যানের ওপর পড়ে আছেন এবং মাসুদ আরেকটি ভ্যানের ওপর পড়ে আছেন। দুজনেরই পেটে গুলি লেগেছিল। মুছাব্বির ভাইয়ের শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। তখন আমি তাঁর পেটে চাপ দিয়ে ওই ভ্যানেই করে দ্রুত মুছাব্বিরকে বিআরবি হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরে তাঁর অবস্থার আরও অবনতি হলে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচির মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছিলেন এক নারী। এক তরুণীর লাঠি দিয়ে মধ্যবয়সী ওই নারীকে পেটানোর ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। মারধরের শিকার ওই নারীকে আজ শুক্রবার গত বছরের জুলাই আন্দোলনের সময়ের একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। ধানমন্ডি থানা–পুলিশ আজ বিকেলে সালমা ইসলাম নামের এই নারীকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে। চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট পার্থ ভদ্র তাঁর জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। সালমা ইসলামের আইনজীবী আবুল হোসেন পাটওয়ারী প্রথম আলোকে বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন তাঁর মক্কেলকে কারাগারে রাখার আবেদন করেন। অপর দিকে তাঁরা জামিন আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আইনজীবীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৪২ বছর বয়সী সালমা ইসলাম আজিমপুরে বসবাস করেন। তিনি একজন গৃহিণী। গতকাল ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে গিয়ে হামলার শিকার হন তিনি। সালমা ইসলামকে কীভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘গতকাল জয় বাংলা স্লোগান দেওয়ার পর ওনাকে মারধর করা হয়। সেখান থেকে কয়েকজন তাঁকে আমাদের হাতে সোপর্দ করে।’ সালমা ইসলামকে গত বছরের ১৯ জুলাই সরকারবিরোধী আন্দোলন চলার মধ্যে ধানমন্ডিতে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় করা মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এ মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে পুলিশ। গতকাল ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের সামনে ওই নারীকে পেটানোর ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া গত বছরের ১ ডিসেম্বর হওয়া ওই মামলার ঘটনা সম্পর্কে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে দেওয়া আবেদনে বলেছেন, এ মামলার বাদী ইউরোপিয়ান ইউনির্ভাসিটির বিবিএ তৃতীয় বর্ষের একজন ছাত্র। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে দেশব্যাপী ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলা অবস্থায় শুরু থেকে বাদী আন্দোলনে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। ১৯ জুলাই রাত আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে বাদী ও আরও অনেকে ধানমন্ডির স্টার কাবাবের সামনে মিছিল করছিলেন। এ সময় কতিপয় আসামিদের নির্দেশে অন্য আসামিরা আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ–সহযোগী ও ১৪–দলীয় জোটের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র, কাটা রাইফেল, পিস্তল, দেশি রামদা, চাপাতি, চায়নিজ কুড়াল, রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে সুসজ্জিত হয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে নিরীহ ছাত্রছাত্রীদের তাঁদের ন্যায্য দাবি থেকে উৎখাত করার লক্ষ্যে অনবরত গুলিবর্ষণ করতে থাকে। একটি গুলি বাদীর পিঠে লেগে পেট দিয়ে বেরিয়ে যায়। এরপর বিভিন্ন হাসপাতালে তিনি চিকিৎসা নেন। মামলা করার সময় আসামির তালিকায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। এ মামলা হওয়ার পর এর তদন্তভার গ্রহণ করেন উল্লেখ করে সালমা ইসলামকে নিয়ে আদালতে দেওয়া আবেদনে এসআই আনোয়ার লিখেছেন, ‘অত্র মামলাটির তদন্তকালে তদন্তে প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণে অত্র মামলার ঘটনার সহিত উপরিউক্ত গ্রেপ্তারকৃত আসামি জড়িত মর্মে তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়।’ তদন্ত কর্মকর্তার এ বক্তব্যের বিরোধিতা করেছেন সালমা ইসলামের আইনজীবী আবুল হোসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘উনি (সালমা ইসলাম) আবেগের বশে গতকাল দুপুরে ধানমন্ডি ৩২ এলাকায় “জয় বাংলা” স্লোগান দেন। সেখানে ওনার ওপর মব সৃষ্টি করে মারধর করা হয়। ভুক্তভোগী হওয়ার পরও ওনাকে আজ আদালতে আনা হয়েছে। জুলাইয়ের হত্যাচেষ্টা মামলা দেওয়া হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ অন্যায় হয়েছে। যে অপরাধ উনি করেননি, সে মামলায় ওনাকে আসামি করা হয়েছে। আমরা ন্যায়বিচার চাই।’ সালমা ইসলামকে কেন এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো, সে প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন স্যারদের নির্দেশে ওনাকে এ মামলায় গ্রেপ্তর দেখানো হয়েছে। এ মামলায় ওনার সম্পৃক্ততার ব্যাপারে কয়েকজন সাক্ষ্য দিয়েছে। তাদের সাক্ষ্যের আলোকেই গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।’ যাঁরা সালমা ইসলামকে আপনার হাতে তুলে দিয়েছেন, তাঁরা সাক্ষ্য দিয়েছেন কি না, সে প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘তাঁরা ছাড়াও অন্য সাক্ষীরা বলেছেন।’
গেল কয়েক বছরে শাকিব খান যেন ভিন্ন রূপে আছেন। নিজেকে অনেকটাই বদলেছেন এবং বিভিন্ন ধরনের সিনেমায় নিজেকে প্রমাণও করছেন। তার নতুন লুক, গেটআপ এবং উপস্থাপনায় তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এক বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন তিনি। বর্তমানে শাকিব তার আসন্ন সিনেমা ‘সোলজার’ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। খবর পাওয়া গেছে যে, শাকিব খান তার পরবর্তী সিনেমায় পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী হানিয়া আমিরকে তার বিপরীতে তুলে ধরবেন। এই তথ্য নিজেই নিশ্চিত করেছেন শাকিব। সম্প্রতি কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাফসান দ্য ছোট ভাইয়ের একটি ভিডিওতে শাকিব বলেন, ‘তোমার অনেকগুলো ভ্লগ দেখলাম, আমার ভবিষ্যৎ হিরোইনের সঙ্গে, হানিয়ার সঙ্গে।’ এরপরে এক প্রশ্নের উত্তরে শাকিব জানান, ‘একটি সিনেমার জন্য তার সঙ্গে কথা চলছে।’
পূর্বনির্ধারিত নির্বাচনি গণসংযোগে গিয়ে গুলিবিদ্ধ স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে। সেখানে তার অস্ত্রোপচার চলছে। তরুণ এই রাজনীতিক ও অ্যাক্টিভিস্টের সুস্থতা কামনায় দোয়া করছে দেশবাসী। সেই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। তিনি বলেন, তরুণ রাজনীতিক ও অ্যাক্টিভিস্ট শরীফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ও মর্মাহত। আল্লাহ তাকে সুস্থভাবে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দিন। অন্তর্বর্তী সরকারের সদ্য সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেন, হাদি ভাই গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বেঁচে থাকুন, আমাদের মাঝে ফিরে আসুন- এই দোয়া করুন সবাই। সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। জাতীয় নির্বাচনের তফশিলের পরপরই এরকম ঘটনা অশনিসংকেত। দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের গ্রেফতার করুন। হাদির সঙ্গে নিজের স্মৃতিচারণ করে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ডা. আসিফ সৈকত বলেছেন, তার সঙ্গে অনেক কথা হয়েছে ইনবক্সে, মেসেঞ্জারে। ছোটো একটা ইস্যুতে ব্লক করলো আমাকে, পরে আবার ব্লক তুলে আরেক ছোটোভাইকে দিয়ে বলালো- ‘আসিফ ভাই , হাদি ভাই বলছেন, ওনাকে ভুল না বুঝতে, দোয়া করতে।’ আমি কিছুই বললাম না। অভিমানটুকু জিইয়ে রাখলাম। বড়ভাইগিরি ফলালাম। মনটা খুব খারাপ লাগতেছে , নিজেকে অপরাধী লাগতেছে। সেরে উঠ ভাই আমার, আমার জীবনে যদি একটা ভালো কাজও করি- সেটার উছিলায় আল্লাহ তোকে সুস্থ করে দিন। বড়ভাইকে মাফ করে দিস হাদি। আল্লাহ তোর বাচ্চাটার জন্য হলেও তোকে ফিরিয়ে দিন। ইমরুল হাসান লিখেছেন, জুলাইয়ের পরে যেই ২-৪টা জায়গা তৈরি হইছে, তার একটা হইতেছে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার, যেই ২-৪টা ভয়েস তৈরি হইছে, তার একজন হইতেছেন ওসমান হাদি! হাদিরে গুলি করা মানে হইতেছে জুলাইয়ের বুকে গুলি চালানো! প্রবাসী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন বলেন, হাদিকে আল্লাহ সুস্থতা দান করুন। হাদির এমন পরিস্থিতি দেখাটা আমাদের জন্য খুবই কষ্টের। তরুণ আলেম ও অ্যাক্টিভিস্ট মনযূরুল হক বলেন, একটা লোক দিনের পর দিন হুমকি পেয়েছে, প্রকাশ্যে একাধিকবার সে-কথা সে বলেছেও, তার জন্য সরকার কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই নাই। এই দায় সরকার এড়াবে কী করে? জুলাইয়ের সন্তানদের মূল্য সরকারের কাছে কী, শুধু ক্ষমতায় টিকে থাকার যন্ত্র মাত্র? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সমাজসেবা সম্পাদক যুবাইর বিন নেছারী (এ বি জুবায়ের) বলেন, আমার ভাই ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হয়েছে। ঢামেকের ইমার্জেন্সিতে ভর্তি এখন। খাস করে দোয়া চাই সবার। হাদির সুস্থতা কামনা করে এনসিপি নেতা সারজিস পোস্ট করেছেন। তিনি লিখেন, ‘হে আল্লাহ, আমাদের ন্যায় ও ইনসাফের পথের সহযোদ্ধা ওসমান হাদি ভাইকে হেফাজত করুন।’ সিনিয়র সাংবাদিক হাসান আদিল সিদ্দিকী বলেছেন, হাদি, আমার ভাই, আমাদের ভাই।তার কিছু হলে তোমাদের রক্ষা নাই।জুলাইয়ে পর যখন সবাই যে যার হিস্যা বুঝে নিয়েছেন তখন হাদি ভাই বেছে নিয়েছিলেন সবচেয়ে সংগ্রামের পথ। নিজেকে নিয়োজিত করলেন জাতি গঠনের কাজে। তিনি রঠা সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে পোস্টারবয় হয়ে উঠেছিলেন। আমরা তাকে ইসলামি জাগরণের অগ্রসৈনিক মেনে নিয়েছিলাম। তাকেই আজ স্তব্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। অর্থাৎ ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশে ইসলামের হয়ে কথা বলাটা এখনো নিরাপদ নয়। গুলি, খুন, অব্যাহত অপপ্রচারের মাধ্যমে এই দেশে ইসলামের জাগরণ ঠেকানো যাবে না। এদিকে হাদিকে হাসপাতালে দেখতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন এনসিপি নেতা ও জুলাইযোদ্ধা হাসনাত আবদুল্লাহ।তিনি দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। নুর মোহাম্মদ লিখেছেন, ‘হে কাবার মালিক হে আসমান–জমিনের মালিক হে জীবন দানকারী ও জীবন গ্রহণকারী তোমার অসীম কুদরতি শক্তির বরকতে আমার ভাই ওসমান হাদিকে পূর্ণ সুস্থতা দান করো। ওয়ালিদ হোসাইন সবুজ লিখেছেন, গুলির আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত হয় যে জীবন; সে জীবন জনতার, সে জীবনই জয় করে ভূবন। হাদি আপনি পারবেন, আপনাকে পারতেই হবে। মো. আব্দুল্লাহ লিখেছেন, যারা মরার জন্য জন্ম নেয় তারা মৃত্যুকে ভয় করে না। তফশিল ঘোষণার একদিনের মধ্যে জুলাইয়ের অন্যতম নায়ক ওসমান হাদি আক্রান্ত হলেন! আমরা দোয়া করছি- আল্লাহ হাদি ভাইকে সুস্থতা এবং নিরাপত্তার চাদরে আবৃত করে রাখুন। রাষ্ট্রকে যারা অকার্যকর করতে চাচ্ছে, তাদের লাগাম টেনে ধরার সময় এখনই। মুসতাকিন মিয়া বলেন, সত্য ও ন্যায়ের পথে অকুতোভয় সৈনিক আমাদের প্রিয় হাদি ভাই। আল্লাহ তাকে সকল ষড়যন্ত্র থেকে হেফাজত করুন।
‘মিস ইউনিভার্স’-এর ৭৪তম আসর। এবারের আসরে ১২১টি দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে সগৌরবে প্রতিনিধিত্ব করছে বাংলাদেশের তানজিয়া জামান মিথিলা। থাইল্যান্ডে শুরু হওয়া এ আসরে ইতোমধ্যে ভোটের তালিকায় ২য় অবস্থানে উঠে এসেছেন মিথিলা। আগামী ২১ নভেম্বর থাইল্যান্ডের কেন্দ্রীয় শহর পাক ক্রেটে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘মিস ইউনিভার্স’-এর ৭৪তম আসরের জমকালো গ্র্যান্ড ফিনালে। গত সেপ্টেম্বরে ‘মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০২৫’-এর মুকুট জেতার পর দেশের পতাকা হাতে গত অক্টোবরের শেষ দিকে তিনি থাইল্যান্ডে মূল মঞ্চে উড়ে গিয়েছেন। তবে মূল প্রতিযোগিতায় নামার আগে পুরোনো একটি ভিডিও নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফের বিতর্কের মুখে পড়লেন এই মডেল। পুরোনো সেই বিতর্কিত ‘ওয়াশরুম ভিডিও’ প্রসঙ্গে সম্প্রতি লাইভে এসে মুখ খুলেছেন মিথিলা। নেটিজেনদের ক্রমাগত নেতিবাচক প্রচারণায় তিনি রীতিমতো বিব্রত। লাইভে মিথিলা প্রথমে স্বীকার করেন যে ঘটনাটি বহু বছর আগেরপ্রায় সাত থেকে আট বছর পুরোনো। তিনি দাবি করেন, যখন ঘটনাটি ঘটেছিল, তখন তারা সবাই ছোট ছিলেন এবং এটি একটি ‘প্র্যাঙ্ক’ হিসেবে দেখানো হয়েছিল। বিতর্কিত ভিডিওটি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের প্রথমে যেটা বলতে চাই, যখন ঘটনাটি ঘটেছিল, তখন আমরা ছোট ছিলাম। ওই ঘটনাটা যখন ভাইরাল হয়, একদল মানুষ বলে, আমি সেক্সুয়ালি তাকে হ্যারাস করেছি। তার আগে বলি, যে মানুষটা ওয়াশরুমে ছিল, সে কিন্তু আমাদের বন্ধু ছিল। আমরা জিনিসটাকে প্র্যাঙ্কের মতো করে দেখিয়েছিলাম।’ তিনি বলেন, ‘আমি শুধু ওখানে ছিলাম, ওখানে আপনারা আমাকে দোষ দিতে পারেন না। আপনারা যেহেতু জিনিসটাকে এত বড় করেছেন। ফেসবুকে অনেকবার বলেছি, আমাকে দয়া করে ক্ষমা করে দিয়েন। আমি ছোট ছিলাম বুঝিনি, বোকার মতো কাজটা করেছি।’ নেটিজেনদের তিনি বলেন, ‘আপনারা ৭/৮ বছরের পুরোনো ভিডিওতে আমাকে নিয়ে নেগেটিভ পাবলিসিটি করছেন। আমাকে নেগেটিভ পাবলিসিটি করলে (প্রতিযোগিতায়) জিততে পারবো না, আমাকে জেতাবে না এরা।’